ভগবান সরকারের উচ্চ বিদ্যালয় সাংস্কৃতির ধারক ও বাহক। গৌরব মন্ডিত কুমিল্লা জেলাদিন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সুউচ্চ বৃক্ষরাজে পরিবেষ্টিত এক মনোরম নৈসর্গিক সৌন্দর্যমন্ডিত স্থান এ অবস্থিত । এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিটি ১৯৪৫ সালের ব্রিটিশ শাসন আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়।এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন স্ত্রী অবিনাশ চন্দ্র লোদ। তিনি ব্রাহ্মণপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত ও সম্পদশালী হিন্দু পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। তার পাঠ্যা অবস্থায় ব্রাহ্মণপাড়া শিক্ষা-দীক্ষায় অনগ্রসর ছিল। সেজন্য তিনি বড় বুড়িচংআনন্দ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পড়তেন।

বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া মধ্যকার দূরত্ব বেশি হলেও তিনি পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতেন। কারন তখনকার পথঘাট বর্ধমানের মত এত উন্নত ছিল না। চলাচলের জন্য কোন পরিবহনও ছিল না। অন্যদিকে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্রাহ্মণপাড়া অনেক পিছিয়ে ছিল।এখানকার শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট স্বীকার করে দূরে গিয়ে লেখাপড়া করতে হতো।এলাকার এই সকল সমস্যা তার মনের গভীর রেখা পাত করেছিল।তোদুপুরে তিনি ছিলেন একজন শিক্ষা অনুরাগী। কর্মজীবনে তিনি ব্যবসা করতেন। এই সময়ে তিনি এলাকার শিক্ষা বিস্তারের জনস্বার্থে নিজ বাড়ির দক্ষিণ পাশে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের বৃত্তি স্থাপন করেন। তার পিতার নাম শ্রী ভগবান চন্দ্রলোত। পিতার নাম অনুসারে বিদ্যালয় নামকরণ করেন ভগবান উচ্চ বিদ্যালয় বিদ্যালয়ের । প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন শ্রী বিভূতিভূষণ ধর।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ছিলেন:
১। সভাপতি – জনাব তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া, গ্রাম: বেজোড়া
2 । সেক্রেটারি – শ্রী রাজমোহন সরকার, গ্রাম: ব্রাহ্মণপাড়া
৩ । সদস্য – শ্রী রমণী মোহন চক্রবর্তী,গ্রাম: ব্রাহ্মণপাড়া
৪ । সদস্য – জনাব জারুল মিয়া চৌধুরী,গ্রাম:সাঁইবাবার
৫। সদস্য – জনাব রাধা রমন সাহা, গ্রাম: সাহেবাবাদ
স্কুল প্রতিষ্ঠা কালীন সময়ে যারা শিক্ষকতায় নিয়োজিত ছিলেন:
১। স্ত্রী দীনবন্ধু চক্রবর্তী রাম ,কল্পবাস
২ । যতীন্দ্রমোহন দেব রামযাত্রাপুর, বুড়িচং
৩ । পন্ডিত অক্ষয় কুমার চক্রবর্তী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
৪ । শ্রী অলঙ্গ মহন দেব, কসবা
৫ । জনাব আশরাফ উদ্দিন, বারেল্লা
৬ । জনাব মাওলানা আয়াত আলী, দেবিদ্বার
স্কুল প্রতিষ্ঠা কালীন সময়ে ক্লার্ক ছিলেন: ধরনি কান্ত ধর
স্কুল প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ছিলেন :
১। সুরেন্দ্রনাথ নমক দপ্তরী, দীর্ঘভূমি
২ । হরিবোল চন্দ্র বণিক,ব্রাহ্মণপাড়া
কিছুদিন পরে বিদ্যালয়ের হাল ধরেন জনপ্রিয় এবং অধ্যাবী প্রধান শিক্ষক শ্রী রমণী মোহন চৌধুরী।
দেশি-বিদেশি গুণীজন কর্তৃক বিদ্যালয়ের পরিদর্শন:
কুমিল্লা পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা জনাব আক্তার আমির খান এবং এসওয়াল্ড স্মিথ অধ্যাপক ভূগোল বিভাগের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক রমণী মোহন চৌধুরী সময়ে অত্র বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন ১৯৬১ সালে বর্তমান স্থানে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করেন প্রতিষ্ঠা তার বাড়ি হতে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করেন সাথে সাথে রাস্তার পূর্ব পাশে বিশাল খেলার মাঠে মাঠের ব্যবস্থাও করে দেন।
তাই এলাকাবাসী আজও অবিনাশ চন্দ্র লোকে শ্রদ্ধা ভাবে স্মরণ করে এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেসেই থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে ১৭-৭-১৯৮৬ সালে বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়
জাতীয়করণের সময় যারা শিক্ষকতা নিয়োজিত ছিলেন:
১। এসএম শহিদুল হক ভূঁইয়া,প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত )
২ । মোঃ সুন্দর আলী সরকারী,সহকারী শিক্ষক
৩ । এ.কে. এমডি ফজলুল হক,সহকারী শিক্ষক
৪। মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহকারী শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন
৫। মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, সহকারী শিক্ষক
৬। সুলতান আহমেদ ভূঁইয়া, সহকারী শিক্ষক
৭। মোহাম্মদ ফরিদ, সহকারী শিক্ষক
৮। মোঃ জহিরুল হক,সহকারী শিক্ষক
৯।মোঃ আব্দুল বাতেন, সহকারী শিক্ষক
১০। মোঃ নায়েব আলী, সহকারী শিক্ষক
১১। দিলীপ কান্তি ঘোষ, সহকারী শিক্ষক
১২। হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, সহকারী শিক্ষক
১৩। জামাল উদ্দিন আহমেদ, সহকারী শিক্ষক
১৪। মোঃ আব্দুল খালেক মোল্লা সহকারী শিক্ষক
বিদ্যালয়ের অবকাঠামো:
বর্তমানে বিদ্যালয়ের ভবন সংখ্যা নতুন পুরাতন চারটি। উত্তর দিকে একতলা বিশিষ্ট ভবনটি প্রতিষ্ঠাকালের নির্মাণ করা হয়েছিল।বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত ভবন হিসেবে বিবেচিত। ভবনটি অনেক পুরাতন হয়ে গিয়েছে মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান গেট বা প্রবেশ ধার।এর উপর তলায় দুটি সুপরিশোর কক্ষ রয়েছে। এখানে একটিতে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা এবং অন্যটিতে মেয়েদের কমনরুম হিসেবে ব্যবহার হয়। দক্ষিণে পাকা ঘাট বিশিষ্ট একটি বড় পুকুরের পাড়ে ত্রিতল ভবনটি বিদ্যালয়ের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। এ ভবনটির নিচতলা একাডেমিক কার্যক্রম বা শিক্ষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখানে উপর নিচসহ মোট নয়টি কক্ষ রয়েছে ।এই ভবনের প্রতি ফ্লোরে সেনিটেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম পাত্রে আরেকটি ত্রিতলভবন বিদ্যালয়ের আঙ্গিনাকে সমৃদ্ধ করেছে । এই ভবনে মোট নয়টি কক্ষ রয়েছে এদের সবগুলো শ্রেণিকক্ষ রূপে ব্যবহৃত হয়। বিদ্যালয় ভবন সংলগ্ন পুকুরের পাড়ে একটি মনোরম মসজিদ রয়েছে।
শহীদ মিনার:
দেশ ও ভাষার রক্ষা তে যারা নিজের জীবন বিসর্জন করে আমাদেরকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাস করার এবং মায়ের ভাষায় কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে বাংলা মায়ের সেই সোনার ছেলেদের শরণার্থী গড়ায় একটি শহীদ মিনার বিদ্যালয়ের মূল গেটের উত্তর পাশের সহ গৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। জাতীয় দিবসে (একুশে ফেব্রুয়ারি) শহীদ মিনারে পুষ্প স্তব অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়
পরিচালনা প্রদশ পর্ষদ:
সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ওপর বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে। এখানে একজন প্রধান শিক্ষক, একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ১৩ জন সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সহকারী প্রধান শিক্ষক চলতি দায়িত্বে এবং ১৩ জন সহকারী শিক্ষকের সমন্বয়ে বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য অত্র বিদ্যালয়ের কোন পথ সৃষ্টি হয়নি। তবে একজন দপ্তরি একজন দারোয়ান ও একজন প্রহরী নিয়ে মোট তিনজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী রয়েছে। কর্মচারী খাত হতে বেসরকারিভাবে আয়া,সুইপারজারুদার ও মালি হিসেবে তিনজন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে
কার্যনির্বাহী কমিটি:
প্রশাসনিক কার্যক্রমকে স্বচ্ছ ও ফলপ্রসারণের ফল প্রশ্ন করতে বিবেকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়ার বিকল্প নেই ।এতে প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ দায়িত্ব ও ক্ষমতা বন্টন করার ফলে সকল বিভাগের সুষ্ঠুভাবে কাজ সহজ হয় । অন্যদিকে দায়িত্বপ্রাপ্তদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পায় এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিগুলো হচ্ছে:
১.একাডেমিক ও শৃঙ্খলা কমিটি
২. অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষন কমিটি
৩.পরীক্ষা কমিটি
৪. সিলেবাস ও ডায়েরি কমিটি
৫. ম্যাগাজিন কমিটি
৬. পরিস্কার পরীক্ষার পরিচ্ছন্নতা কমিটি
৭.ভর্তি কমিটি
৮.ক্রীড়া কমিটি
৯.মিলাদ মাহফিল উদযাপন কমিটি
১০.সাংস্কৃতিক কমিটি
১১.মসজিদ কমিটি
১২.মৎস্য চাষ কমিটি
১৩. গার্হস্থ্য বিজ্ঞান কমিটি
১৪. পরীক্ষা কমিটি
১৫. উপবৃত্তি কমিটি
১৬. টাউট ও গার্লস গাইড কমিটি
১৭. গ্রন্থাগার কমিটি
১৮. বিজ্ঞান আগার কমিটি
১৯.টেন্ডার কমিটি
২০.আসবাবপত্র মেরামত কমিটি
২১. কম্পিউটার কমিটি
কার্যনির্বাহী কমিটি তাদের সার্বিক কার্যের জন্য প্রধান শিক্ষকের নিকট দায়ী থাকেন
বিদ্যালয়ের ছাত্র ভর্তি পদ্ধতি :
অন্যান্য সরকারি স্কুলের মত এই বিদ্যালয়ের ও প্রতিবছর ছাত্রছাত্রী ভর্তির ব্যবস্থা করা হয় ।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে সভাপতি করে চার সদস্যের একটি ভর্তি কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অধীনে ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন শ্রেণীর সম্ভাব্য শূন্য পদের অনুকূলে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরীক্ষা শেষে খাতা মূল্যায়ন,ফলাফল নির্ণয় এবং সবশেষে নির্বাচিত ছাত্র-ছাত্রীদের ফলাফল প্রকাশ করা হয় সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট দিনে ছাত্র ভর্তি করিয়ে নেন । তাছাড়া সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলিজনিত কারণে তাদের সন্তান ভর্তি পরীক্ষার জন্য সভাপতি সাপেক্ষে আবেদন করতে পারেন।
প্রত্যাহিক সমাবেশ:
Morning shows the day অনুরূপভাবে প্রত্যাহিত সমাবেশের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মসূচি সুশৃংখলভাবে অনুষ্ঠিত হয় । নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা, অনুগত্যবোধ ও শৃঙ্খলা বোধ ইত্যাদি গুণাবলী বিকাশ ঘটে। তাই প্রতিনিয়ত অভিজ্ঞ শরীর চর্চা শিক্ষকের পরিচালনায় এবং প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকের উপস্থিতিতে ছাত্র-ছাত্রীরা শ্রেণীবিত্তিক সারিবদ্ধ ভাবে উচ্চতা ক্রমানুসারে পাঠে মাঠে অবস্থান নেয় । জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় পতাকাকে সম্মান প্রদর্শন সূরা ফাতিহা পাঠ,শপথ পাঠ, ব্যায়াম অনুশীলন পরিশেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পর ছাত্ররা সাথে স্ব স্ব শ্রেণীতে গমন করি। প্রতিকূলে আবহাওয়া কক্ষের ত্ত্বাবধানে প্রত্যাহিত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় অনুষ্ঠানের জন্য সম্প্রতি নির্মাণ করা হয়েছে একটি সুদৃশ্য মঞ্চ।
ইউনিফর্ম:
সাম্য ও ভাতৃত্ববোধ ও ঐক্যের বন্ধন কে সুদৃঢ় করা ও সহপাঠীসুলভ মনোভাব বৃদ্ধের লক্ষ্যে স্কুলের নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম রয়েছে। ছেলেদের জন্য সাদা শার্ট ও সাদা প্যান্ট সাদা জুতা ও সাদা মোজা ।মেয়েদের জন্য সাদা ফ্রক সাদা স্যালোয়ার সাদা ওড়না সাদা জুতা ও সাদা মোজা। শীতকালের জন্য ছেলে মেয়ের নেভি কালার সোয়েটার শীতকালের জন্য ছেলে মেয়ে উভয়ের নিবি কালার সোয়েটার এই ইউনিফর্মের অন্তর্ভুক্ত ।প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদের নির্ধারিত পরিচয় পত্র দেওয়া হয়ে থাকে।
শিক্ষাসূচির প্রণয়ন ও কার্যকারিতা:
প্রতিবছর জানুয়ারি মাসের nctv কর্তৃক নির্ধারিত শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক এর উপর নির্ভর করে নতুন বছরের শিক্ষা সূচি প্রণয়নের কাজ শুরু হয় । প্রধান শিক্ষকের সুনিপন নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সিলেবাস প্রণয়ন করা হয় । ছুটির তালিকা পদ্ধতি পরীক্ষা অনুষ্ঠান ও ফলাফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ থাকে
পরীক্ষার অনুষ্ঠান ফলাফল নির্ণয় পদ্ধতি :
১জানুয়ারি থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাপ্ত প্রতিটি শিক্ষাবর্ষ দুটি পর্বে বিভক্ত থাকে। প্রতিপর্বে শেষে একটি করে পরীক্ষার অনুষ্ঠান হয় ।ষষ্ঠ শ্রেণি হতে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা ও ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র ব্যতীত সৃজনশীল প্রশ্ন বহুনি ও ব্যবহারিক নাম্বার সহ মোট ১০০ নম্বর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় । ফলাফল নির্ণয়ের এই ১০০ নম্বর কে ৮০ শতাংশ এর রূপান্তর করা হয় এবং বাকি 20 নাম্বার বিষয় শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে তিনটি এর উপর মূল্যায়ন করা হয় । নির্বাচনে ব্যবহারিক ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের প্রতিটিতে পৃথক পৃথকভাবে পাস করতে হয় । বছর শেষে দুটি পরীক্ষার গড় ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হয়।
অভিভাবক শিক্ষক সভা:
ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার উন্নতিকল্পে নিয়মিতভাবে অভিভাবক সবার আয়োজন করা হয়।এই সভায় ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার অগ্রগতি বা অবনতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়।
পাঠাগার:
প্রমথ চৌধুরী বলেছেন লাইব্রেরীকে আমি স্কুল কলেজের উপর স্থান দেই আলোকিত মানুষ হওয়ার জন্য প্রয়োজন বই পড়া । এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, দেশ প্রেম,বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি ও শৈল্পিক চেতনার অন্যেস ঘটে ।এই লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের মূল ভুবনের দোতলায় গড়ে তোলা হয়েছে বিদ্যালয় পাঠাগার । লাইব্রেরী পরিচালনার জন্য কোন লাইব্রেরিয়ান না থাকলেও একজন শিক্ষক লাইব্রেরী কার্যক্রম পরিচালনা করে ।
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া কর্মসূচি :
আলোকিত মানুষ গড়ার লক্ষ্যে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ পরিচালিত বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের একটি শাখা রয়েছে । এই বিদ্যালয় এ কর্মসূচির সংগঠনের দায়িত্বে আছেন একজন সরকারি শিক্ষক। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছে।
গবেষণাগার:
প্রায়োগিক শিক্ষা প্রকৃত শিক্ষা। তাই আমাদের ছাত্রদের হাতে-কলমে শিক্ষাদানের জন্য বিদ্যালয়ের মূলভবনের তিন তলায় পদার্থবিজ্ঞান,রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও কৃষি বিজ্ঞানের গবেষণাগার রয়েছে। এখানে ছাত্র-ছাত্রীরা বিষয় শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার ব্যবহারিক গান লাভ করে।
কম্পিউটার ল্যাব:
২১ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আমাদের দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন প্রযুক্তি নির্ভর বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা ।এর উদ্দেশ্যে বাস্তবায়নের জন্য সিলেবাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কম্পিউটার শিক্ষা। বর্তমানে বিদ্যালয়ের মূল ভবনের তৃতীয় তলায় রয়েছে আটটি কম্পিউটার সম্বলিত অত্যাধুনিক একটি কম্পিউটার ল্যাব ছাত্রছাত্রীদের হাতে কলমে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জন্য।
সহ পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী:
সহপাঠ্যকর্মী কার্যাবলীর উপর গুরুত্ব প্রদান গুণগতমান সম্পন্ন ও প্রয়োগিক শিক্ষার অন্যতম পূর্ব শর্ত।শর্ত পূরণের প্রত্যয় নিয়ে ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহপাঠ্যকর্মী কার্যাবলীর উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে আসছে ।
ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার:
বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ডিজিটাল কন্টেন্ট এর মাধ্যমে ডিজিটাল ল্যাব ও শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করে থাকেন
মিলাদ মাহফিল:
লাকাত কানা লাকুম ফি রাসুলুল্লাহি ওসওয়াতুন হাসানাহ আল্লাহর রাসূলের জীবনী তোমাদের জন্য মহত্বের আদর্শ (সূরা আহযাব)। আল কোরআন হচ্ছে শব্দ ও বাক্যের সমষ্টি আর মোহাম্মদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্র হচ্ছে তার ব্যাখ্যা (আবু দাউদ)। মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর কর্মসূচি ও তার পবিত্র জীবন চরিত্রের উপর আলোচনা জন্য প্রতিবছর প্রথম দিকে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে বার্ষিক মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।
খেলাধুলা:
সুস্থ দেহ সুস্থ মন একটু কর্মজাতি গড়ে ওঠার প্রথম ও প্রধান শর্ত হচ্ছে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী একটি জনগোষ্ঠী। ছাত্রদের শারীরিক মানসিক উন্নৈতিক চরিত্র গঠন ও প্রতিযোগিতা বুধ উন্নয়নে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসম।খেলাধুলার জন্য বিদ্যালয়ের পাশে রয়েছে একটি বিশাল খেলার মাঠ। এ মাঠে সারা বছরই বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠিত হয়। শরীরচর্চা শিক্ষকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল। এই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন প্রতিযোগিতায় অনেক পুরস্কার পেয়ে থাকে।
স্কাউট ও গার্লস গাইড:
মানবসেবা নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা পূর্ণ জীবন গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় স্কাউট কার্যক্রমের উপর গুরুত্ব প্রদান করে। স্কাউট সদস্যরা স্কুলের শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসহায় মানুষদের সাহায্যার্থে সদা প্রস্তুত থাকে।
রেড ক্রিসেন্ট:
মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে রেড ক্রিসেন্ট এর কার্যক্রম চলছে। বিদ্যালয়ে এ নামে একটি ফান্ডের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে মানব সেবায় ব্যতীত হবে।
ডেবিটিং ক্লাব:
এই বিদ্যালয়ে ডেভিটিং চর্চা চলছে অনেক দিন যাবত। বিদ্যালয়ের ডেভিটিং ক্লাব বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে থাকে।
জাতীয় দিবস উদযাপন:
কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক বিদ্যালয়ের যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস বিজয় দিবস। শহীদ দিবস, জাতীয় শোক দিবস সহ অন্যান্য জাতীয় দিবস সমূহ পালন করা হয়। সংশ্লিষ্ট দিবসের উপর ভিত্তি করে ছাত্রছাত্রীরা আবৃতি দেশাত্মবোধক গান বক্তৃতা ইত্যাদি প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণ করে ।পরে আলোচনা সভায় ছাত্র শিক্ষক অভিভাবক উত্তর দিবসের উপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করে।
নবীন বরণ:
ষষ্ঠ শ্রেণীর নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ করতে প্রতিবছর জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান:
মাধ্যমিক শিক্ষা প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষার সেতুবন্ধন ।সুশিক্ষা ও মূল্যবোধ অর্জনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে অর্জিত গান চলার পথে আনন্দ বেদনার স্মৃতি ।শিক্ষার্থীদের মনে লালিত করে শিক্ষায়তনের গণ্ডির ভেতর অবস্থানকালে ঘরে ওঠা হৃদয়টা সখ্যতা ও বন্ধুত্ব জীবন সংগ্রামের কাঠিন্যতায় একদিন হারিয়ে যায়। এস এস সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে বিদায় সংবর্ধনা আয়োজন করা হয়।
বিদায় সংবর্ধনা:
বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারী কেউ চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করলে তাকে ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়। বদলিজনিত কারণে শুধুমাত্র শিক্ষকদের পক্ষ হতে বিদায় জানানো হয়।
বাগান বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য খামার কর্মসূচি:
” দাও ফিরিয়ে সে অরণ্য, লয়ে নগর” কবি খুব আক্ষেপ করে এ কথা বলেছেন। কিন্তু আমাদের কোন আক্ষেপ নেই বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে অনেক বৃক্ষ কুল ক্যাম্পাসে সেগুন, অর্জুন, কাঁঠাল, কাঠবাদাম আরো কত কি ক্যাম্পাসের পশ্চিম পাশে ঘরে তোলা হয়েছে একটি
মনোরম ফুলের বাগান। বাগানটিতে মৌসুমী ফুলের সমরহ থাকে সারা বছর গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাধা ইত্যাদি ফুলের সুবাস বিদ্যালয় অঙ্গনকে বিনোহিত করে তোলে। প্রতি বছর বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও মৎস্য খামার এর পারগুলোতে বৃক্ষরোপণ করা। হয় উত্তর পাশে মাথা চুল করে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের শহীদ মিনার। বিদ্যালয়ের মূল ভবনের দক্ষিণ পাশে রয়েছে বিদ্যালয়ের একটি বিশাল পুকুরে ।পুকুরে প্রতিবছর ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগে মাছ চাষের ব্যবহারিক কার্যক্রম চলে আসছে ।
ফলাফল:
বিদ্যালয়ের কঠুর নিয়োম শৃঙ্খলা অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলীর অনুপ্রেরণায় ছাত্রদের মেধা মন-মানসিকতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টার এবং অভিভাবকদের সচেতনতা ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবছর জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করে বিদ্যালয়ের সুনাম করে আসছে